• الصفحة الرئيسيةخريطة الموقعRSS
  • الصفحة الرئيسية
  • سجل الزوار
  • وثيقة الموقع
  • اتصل بنا
English Alukah شبكة الألوكة شبكة إسلامية وفكرية وثقافية شاملة تحت إشراف الدكتور سعد بن عبد الله الحميد
الدكتور سعد بن عبد الله الحميد  إشراف  الدكتور خالد بن عبد الرحمن الجريسي
  • الصفحة الرئيسية
  • موقع آفاق الشريعة
  • موقع ثقافة ومعرفة
  • موقع مجتمع وإصلاح
  • موقع حضارة الكلمة
  • موقع الاستشارات
  • موقع المسلمون في العالم
  • موقع المواقع الشخصية
  • موقع مكتبة الألوكة
  • موقع المكتبة الناطقة
  • موقع الإصدارات والمسابقات
  • موقع المترجمات
 كل الأقسام | مقالات شرعية   دراسات شرعية   نوازل وشبهات   منبر الجمعة   روافد   من ثمرات المواقع  
اضغط على زر آخر الإضافات لغلق أو فتح النافذة اضغط على زر آخر الإضافات لغلق أو فتح النافذة
  •  
    أخطاء يقع فيها بعض الأئمة في القنوت للتراويح
    د. فهد بن ابراهيم الجمعة
  •  
    خطبة العيد 1433هـ
    د. غازي بن طامي بن حماد الحكمي
  •  
    خطبة شاملة لعيد الفطر المبارك 1447هـ
    رمضان صالح العجرمي
  •  
    خطبة عيد الفطر 1446 هـ
    د. أحمد بن حمد البوعلي
  •  
    خطبة عيد الفطر 1447 هـ
    د. صغير بن محمد الصغير
  •  
    في خيرية القرآن الكريم
    نايف عبوش
  •  
    خطبة عيد الفطر لعام 1443 هـ
    د. أيمن منصور أيوب علي بيفاري
  •  
    خطبة العيد 1432هـ
    د. غازي بن طامي بن حماد الحكمي
  •  
    مشروعية الأعياد في الإسلام
    أ. د. السيد أحمد سحلول
  •  
    قيمة الدين الإسلامي في حياتنا اليومية
    بدر شاشا
  •  
    يوم الفرقان، غزوة بدر الكبرى (خطبة)
    أبو سلمان راجح الحنق
  •  
    خطبة عيد الفطر لعام 1447هـ
    أحمد بن عبدالله الحزيمي
  •  
    تفسير قوله تعالى: {الله لا إله إلا هو الحي القيوم ...
    د. عبدالفتاح بن صالح الرصابي القعطبي
  •  
    خطبة عيد الفطر: إصلاح الضمائر والنيات
    حسان أحمد العماري
  •  
    خطبة عيد الفطر المبارك (الله أكبر على نعمة ...
    السيد مراد سلامة
  •  
    العاجز عن الصيام عجزا مستمرا لا يرجى زواله
    أ. د. عبدالله بن محمد الطيار
شبكة الألوكة / آفاق الشريعة / منبر الجمعة / الخطب / خطب بلغات أجنبية
علامة باركود

ونكتب ما قدموا وآثارهم (خطبة) - باللغة البنغالية

ونكتب ما قدموا وآثارهم (خطبة) - باللغة البنغالية
حسام بن عبدالعزيز الجبرين

مقالات متعلقة

تاريخ الإضافة: 25/1/2026 ميلادي - 6/8/1447 هجري

الزيارات: 1687

حفظ بصيغة PDFنسخة ملائمة للطباعةأرسل إلى صديقتعليقات الزوارأضف تعليقكمتابعة التعليقات
النص الكامل  تكبير الخط الحجم الأصلي تصغير الخط
شارك وانشر

﴿ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ ﴾

 

المترجم: عبد الرحمن بن لطف الحق

 

খুতবার বিষয়ঃ আমি লিখে রাখি যা তারা আগে পাঠায় ও যা তারা পিছনে রেখে যায় ।

প্রথম খুৎবা

 

الحمد الله العزيز الغفار الواحد القهار، أنعم على العباد هذه الدار، وجعلها مكان بلاء واختبار، ووعد الطائعين بجنات وأنهار وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، تواب غفار، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله المصطفى المختار، صلى عليه الله وعلى آله وسلم ما أثمرت الأشجار وما تفتحت الأزهار.

 

আমি আপনাকে এবং নিজেকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার, নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করার এবং নতুন করে তাওবা করার ওসিয়ত করছি:

﴿ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ ﴾ [البقرة: 194].

 

অনুবাদঃ এবং তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন করবে। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।

 

বিশ্বস্ত ভাইয়েরা! আজ পবিত্র কোরানের একটি আয়াতের উপর চিন্তা করা যাক, কেননা পবিত্র কুরআনে রয়েছে রহমত, হেদায়েত ও আরোগ্য।

 

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ

﴿ إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ ﴾ [يس: 12].

 

অনুবাদঃ নিশ্চয় আমরা মৃতকে জীবিত করি এবং লিখে রাখি যা তারা আগে পাঠায় ও যা তারা পিছনে রেখে যায় । আর আমরা প্রত্যেক জিনিস স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি ।

 

এ আয়াতে আল্লাহ চারটি বিষয় উল্লেখ করেছেন:

প্রথম কথা: যে তিনি মৃতদের পুনরুত্থিত করবেন, তা আল্লাহ জোর দিয়ে বলেছেন, এমনকি নিজের সম্পর্কে সম্মানের শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

 

দ্বিতীয় কথাঃ দুনিয়াতে মানুষ যে কাজগুলো করছে, আল্লাহ তায়ালা সেগুলো লিখে রাখছেন।

 

তৃতীয় জিনিস: এবং তিনি সেই আমলও লিপিবদ্ধ করেন যা মানুষ রেখে যায়।

 

চতুর্থ বিষয়ঃ তিনি সব কিছু সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। (আযওয়াউল বায়ান: ৬/৬৫৪).

 

তৃতীয় পয়েন্টটি আমাদের আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে, মানুষের পিছনে রেখে যাওয়া কাজগুলি, এবং অবশিষ্ট পয়েন্টগুলি সংক্ষেপে তুলে ধরব।

 

মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই আমরা মৃতকে জীবিত করব)

 

শাইখ সাদী লিখেছেন: অর্থাৎ, আমরা তাদের মৃত্যুর পর তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়ার জন্য তাদের পুনরায় জীবিত করব।

 

এর পর যে বাক্যটি রয়েছেঃ (এবং আমরা সেই আমলগুলি লিখি যা তারা আগে পাঠায়)

 

এ সম্পর্কে ইবনে জারীর বলেন: অর্থাৎ তারা দুনিয়াতে যা কিছু ভালো-মন্দ করুক না কেন, (আমরা সেগুলো লিখে রাখি)।

 

আল্লাহ তায়ালার এই হুকুম সম্পর্কে আলেমদের দুটি প্রসিদ্ধ উক্তি রয়েছে এবং উভয়টিই সঠিক, এর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, বরং এই প্রতিটি অর্থের সমর্থনে কুরআন ও হাদীসের দলীল রয়েছে।

 

প্রথম তাফসীরঃ হাসান ও কাতাদাহ বলেনঃ

﴿ وَآثَارَهُمْ ﴾.


এর অর্থঃ তাদের পায়ের ছাপ। সুতরাং জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নববীর পাশে কিছু জায়গা খালি হলে বানু সালামাহ গোত্র সেখানে এসে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করল। বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে তিনি তাদের (বানু সালিমাহ গোত্রের লোকদের) উদ্দেশে বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মাসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাই মনস্থ করেছি। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে বানু সালিমাহ গোত্রের লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঐ বাড়ীতেই থাকো। কারণ তোমাদের সলাতের জন্য মাসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়। (মুসলিম)

 

এই অর্থটি পবিত্র কুরআনের এই আয়াত দ্বারা সমর্থিত যেখানে আল্লাহ তায়ালা মুজাহিদদের সম্পর্কে বলেছেনঃ

﴿ وَلاَ يَقْطَعُونَ وَادِياً إِلاَّ كُتِبَ لَهُمْ ﴾ [التوبة: 121].

 

অনুবাদঃ এবং যে কোন প্রান্তরই অতিক্রম করে তা তাদের অনুকূলে লিপিবদ্ধ হয়।

 

এ থেকে জানা যায় যে, আপনার পদক্ষেপগুলো যদি ভালো কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে আপনার আমলনামায় সওয়াব লেখা হয় এবং যদি সেগুলো পাপের কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে আপনার ওপর গুনাহ লেখা হয়!

 

কাতাদাহ বলেন: মহান আল্লাহ যদি আপনার কোন বিষয়ে গাফিল হতেন, তবে তিনি আপনার পায়ের ছাপ থেকে গাফেল থাকতেন যা বাতাসের দমকা হাওয়ায় অদৃশ্য হয়ে যায়, কিন্তু আল্লাহ আদম সন্তানের সমস্ত কাজ, নিদর্শন ও ছাপ লিখে রাখেন। এই পর্যন্ত যে পায়ের ছাপগুলিও গণ্য করা হয় যে, সেগুলি ভাল কাজে ব্যবহার করা হয়েছে না খারাপ কাজে। তাই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি চাই যে, আল্লাহর আনুগত্যের পথে তার পায়ের ছাপ লেখা হোক সে যেন তা করে।

 

দ্বিতীয় তাফসির: ভালো-মন্দের প্রভাব, তাই একজন মানুষ মারা যায়, কিন্তু সে তার জীবনে যে কাজগুলো করেছে এবং যে পদ্ধতিগুলো সে চালু করেছে এবং যেগুলোতে তাকে অনুকরণীয় বলে গণ্য করা হয়েছে, সেগুলোর প্রভাব থেকে যায়।

 

সাদী বলেছেন: আল্লাহর এই বাণীঃ

﴿ وَآثَارَهُمْ ﴾

এর অর্থ হল ভাল এবং খারাপের সেই প্রভাবগুলি যা তার জীবনে এবং তার মৃত্যুর পরে সংঘটিত সেই ভাল বা খারাপ কজগুলো যেগুলো সংঘটিত হওয়ার সে কারণ ছিল।

 

একই সময়ে, এটি তার বক্তৃতা বা তার পরিস্থিতির প্রভাবের কারণে সংঘটিত ক্রিয়াগুলিও এর অন্তর্ভুক্ত।

 

অতএব, বান্দার জ্ঞানের কারণে, বা তার শিক্ষা ও উপদেশের কারণে, বা সৎকাজের আদেশের কারণে, বা তাকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার কারণে, বা এই জ্ঞানের কারণে, যা সে ছাত্রদেরকে শিখিয়েছে। অথবা তাঁর জীবদ্দশায় এবং তাঁর মৃত্যুর পরে যে তার লিখিত বইগুলি থেকে লাভ উঠানো হয়েছিল, বা কিছু নেক আমল যেমন নামায, রোযা, যাকাত, সাদাকাহ ও দানশীলতা ও নেক আমল করার জন্য এবং অন্যান্য লোকেরাও সেই কাজে তাঁকে অনুসরণ করে। অথবা সে একটি মসজিদ নির্মাণ করে, অথবা এমন একটি ইমারত নির্মাণ করে যা থেকে মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এই ধরণের অন্য কোন কাজ করে, তাহলে অবশ্যই এই সমস্ত কাজ এই নিদর্শন ও ছাপের অন্তর্ভুক্ত যা বান্দার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয়। সেই মত খারাপ কাজগুলোও আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয়।

 

আযওয়া উল-বায়ানের লেখক বলেছেন: "তার লক্ষণ ও ছাপগুলির অর্থ হল: লোকেরা ইসলাম গ্রহণের পর যে ভাল বা খারাপ কাজের ভিত্তি স্থাপন করে, এবং তাদের মৃত্যুর পরে অনুসরণ তা অনুসরণ করা হয় এগুলো তার রেখে যাওয়া ছাপগুলির মধ্যে বিবেচিত হয়।"

 

যেমন আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে, তার এ খুনের পাপের অংশ আদাম (আঃ)-এর প্রথম ছেলের (কাবিলের) উপর বর্তায়। কারণ সেই সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন ঘটায়।

 

ইমাম নববী বলেন: "এই হাদিসটি ইসলামের একটি নিয়ম বর্ণনা করে, তা হল: যে ব্যক্তি একটি খারাপ পদ্ধতি চালু করে, কেয়ামত পর্যন্ত যে ব্যক্তি এটি পালন করবে তার আমলনামায় তার গুনাহ লেখা হয়। ঠিক যেমন যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজের ভিত্তি স্থাপন করে, সেও বিচার দিবস পর্যন্ত এটি পালনকারীর সমান সওয়াব ও সওয়াব পায়।" এই ব্যাখ্যাটি আল্লাহ তায়ালার বাণী দ্বারা সমর্থিতঃ

﴿ لِيَحْمِلُواْ أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِينَ يُضِلُّونَهُم بِغَيْرِ عِلْمٍ أَلاَ سَاء مَا يَزِرُونَ ﴾ [النحل: 25].

 

নিম্নোক্ত হাদীসে এই আয়াতের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়ঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উত্তম প্রথা বা কাজের প্রচলন করে সে তার এক কাজের সাওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা তার এ কাজ দেখে তা করবে সে এর বিনিময়েও সাওয়াব পাবে। তবে এতে তাদের সাওয়াব কোন অংশে কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে (ইসলামের পরিপন্থী) কোন খারাপ প্রথা বা কাজের প্রচলন করবে, তাকে তার এ কাজের বোঝা (গুনাহ এবং শাস্তি) বহন করতে হবে। তারপর যারা তাকে অনুসরণ করে এ কাজ করবে তাদের সমপরিমাণ বোঝাও তাকে বইতে হবে। তবে এতে তাদের অপরাধ ও শাস্তি কোন অংশেই কমবে না।

 

অন্য হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমাল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমাল ছাড়া। ১. সদাকাহ জারিয়াহ্ অথবা ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা ৩. পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু'আ করতে থাকে।

 

তাদের রেখে যাওয়ার ছাপ ও প্রভাব যেমন ভালো ও মঙ্গলের এক বিরাট দ্বার, তেমনি মন্দেরও একটি বিস্তৃত দরজা। হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় এই কল্যাণ কোষাগারস্বরূপ এবং এই কোষাগারের রয়েছে কিছু সংখ্যক চাবি। সুসংবাদ সেই বান্দার জন্য যাকে আল্লাহ কল্যাণের দ্বার উন্মোচনকারী ও অকল্যাণের পথ রুদ্ধকারী বানিয়েছেন। ধ্বংস সেই ব্যাক্তির জন্য যাকে আল্লাহ অকল্যাণের দ্বার উন্মোচনকারী এবং কল্যাণের পথ রুদ্ধকারী বানিয়েছেন। (ইবনে মাজাহ, আলবানী হাসান বলেছেন)।

 

প্রিয় ভাইগণ! আসুন আমরা ভাল এবং খারাপ লক্ষণগুলির কয়েকটি উদাহরণ বিবেচনা করি, আমরা তাকওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি।

 

মানুষ রিযিকের সন্ধানে ব্যবসা করে, কিন্তু তার ব্যবসা বা এই ব্যবসার কিছু অংশ ভালো বা মন্দ প্রভাব শামিল করে! মন্দের প্রভাবের উদাহরণ হল, যে ব্যক্তি সিগারেট বিক্রি করে তার ব্যবসার কারণে শত শত বা হাজার হাজার মানুষ ধূমপান করে এবং তাদের সকলের যে পরিমাণ গুনাহ হয়, সেই পরিমাণ গুনাহ ব্যবসায়ীরও হয়।

 

ঠিক একইভাবে যে ব্যক্তি নারীদের উলঙ্গ-নগ্ন পোশাক বিক্রি করে, সে নিজেও বুঝতে পারে না যে, যে ব্যক্তি এই কাপড় পরিধান করবে তার পাপের ভাগীদার হবে। বরং সে ঐ ব্যক্তিরও পাপের অংশীদার হবে যে সেই কাপড় পরিধানকারিনীর দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে বা তার প্রলোভনের শিকার হবে! সেই মত যদি একজন ব্যক্তি শালীন পোশাক বিক্রি করে সে সাওয়াব পায়, কারণ সে মর্যাদা, শালীনতা এবং কল্যাণের কাজে লোকেদের সাহায্য করে, এই নিয়মটি সেই ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যারা এই জাতীয় পণ্য অন্য দেশে বিক্রি করে বা অন্য দেশ থেকে অর্ডার করে বা নিজেই তৈরি করে।

 

একইভাবে, এমন কিছু ভদ্রলোক আছেন যারা প্রকাশনা সংস্থা বা লাইব্রেরির মালিক, কারণ যে বইটি উপকারী তা ক্ষতিকারক বইয়ের সমান নয়!

 

মানুষের লক্ষণ ও ছাপের কারণ হতে পারে এমন একটি কথা যা সে তার জিহ্বা দিয়ে বের করে বা কলম দিয়ে লেখে! সম্ভবত আপনি সহীহ বুখারীর সংকলনের কারণ সম্পর্কে শুনেছেন, বুখারী বলেছেন: আমরা ইসহাক ইবনে রাহুইয়াহ এর সাথে ছিলাম, তিনি বলেছিলেন: তোমরা যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীসের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন করে একটি হাদীসের বই লিখলে কতই না ভাল হত। বুখারী বলেনঃ বিষয়টি আমার অন্তরে লেগে যায়। তাই আমি সহীহ হাদীস সংকলন শুরু করলাম। আল্লাহু আকবার! ইসহাক বিন রাহুয়াহর একটি কথার ফলশ্রুতিতে এমন একটি কিতাব আবির্ভূত হয়েছে যেটি পবিত্র কুরআনের পর পৃথিবীর সবচেয়ে সঠিক গ্রন্থ, বিগত শতাব্দীতে তিনি কত সাওয়াব পেয়েছেন!! আমরা দ্বিতীয় খুতবায় এই বিষয় সম্পর্কে আরও কথা বলব।

 

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদেরকে তাঁর আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করেন, আমাদেরকে সেই কাজগুলো করতে সক্ষম করেন যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, আমাদেরকে পথপ্রদর্শক ও পথপ্রদর্শন করেন। বিভ্রান্ত ও বিপথগামী না করেন , রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং তাওবাহ করুন।

 

দ্বিতীয় খুতবাহ

الحمد لله....


যে সহজ জিনিসের পিছনে অনেক ভালো দিক লুকিয়ে আছে তার মধ্যে রয়েছে শিশুকে সূরা আল-ফাতিহা এবং ছোট ছোট অধ্যায় শেখানো, কারণ আপনার শিক্ষার কারণে সে যদি এই অধ্যায়গুলো মুখস্থ করে ফেলে, তাহলে যখন সে নামাযে বা অন্য কোনো সময়ে এই সূরাগুলো পাঠ করবে, তখন আপনি তার সমান সওয়াব পাবেন! একইভাবে, শিশুকে কীভাবে দুআ করতে হয় তা শেখানো এবং তাকে প্রার্থনা স্মরণ করিয়ে দেওয়াও একটি অত্যন্ত সম্মানজনক এবং মহৎ কাজ! এর মধ্যে লুকিয়ে আছে অসীম পুরস্কার! আজকের শিশুরাই আগামী দিনের যুবক, এটা সম্ভব যে তারা এই সূরাগুলো অন্য শিশুদেরও শেখাবে, এভাবেই কল্যাণের ধারা অব্যাহত থাকবে। পঞ্চাশ বা তারও বেশি বছর ধরে কুরআনের রেকর্ডিং চলছে, সেই মত গানও রেকর্ড হয়েছে।

 

কারীগণ এবং যাদেরকে তারা কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন তারা কত সওয়াব পাবেন! পক্ষান্তরে যারা গান গেয়েছে এবং যারা তা প্রচার করেছে তাদের জন্য এটা কি মহা পাপ!

 

যখন একজন কাফির আপনার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন আপনি তার সমস্ত ইবাদতের পুরস্কার এবং যারা তার দ্বারা পরিচালিত হয় তাদের সওয়াবের অংশীদার হন। একজন ফিলিপিনো ব্যক্তি তাওহীদের উপর একটি ছোট বই পড়ার পর ইসলাম গ্রহণ করেন। এর পরে, তিনি একজন প্রচারক হন, এবং দশ হাজার মানুষ তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিল! এই সমস্ত লোকের সওয়াব সেই পুস্তিকাটি যে ব্যক্তি লিখেছেন তার আমলনামায়ও লিপিবদ্ধ করা হবে।

 

"আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহ তোমার মাধ্যমে একজনকেও পথ দেখান, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম।

 

আপনি যদি রিয়াযুস সালেহীননের মতো একটি বই বা হিসনুল মুসলিম-এর মতো একটি পুস্তিকা উৎসর্গ করেন, তবে আপনি সেই সমস্ত লোকের সওয়াবও পাবেন যারা এই বই থেকে দীন শিখে এবং এর উপর অনুসরণ করে। উল্লেখ্য যে হিসনুল মুসলিম একটি সংক্ষিপ্ত বই যা খুবই উপকারী এবং এর মূল্য মাত্র এক রিয়াল।

 

আপনি যদি একটি মুসহাফ (কোরআনের একটি কপি) উৎসর্গ করেন বা উপহার দেন, আপনিও এটি পাঠকারীর সমান সওয়াব পাবেন, এটি ভাল কাজ করার সহজ এবং সহজ উপায়, আলহামদুলিল্লাহ।

 

নেকীর সবচেয়ে সহজ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দরজা হল অন্যকে নেকীর দিকে নিয়ে যাওয়া।

 

আবূ মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, “আমার বাহন হালাক হয়ে গেছে, আপনি আমাকে একটি বাহন দিন।” তিনি বললেনঃ আমার কাছে তো তা নেই। সে সময় এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি এমন এক ব্যক্তির সন্ধান তাকে দিচ্ছি, যে তাকে বাহন দিতে পারে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন ভাল আমালের পথ প্রদর্শন করে, তার জন্যে 'আমালকারীর সমান সাওয়াব রয়েছে।

 

প্রিয় আমার বন্ধুরা!

 

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের জীবনে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ এর দ্বারা ধর্মীয় ও পার্থিব উভয় দিক থেকে উপকৃত হচ্ছেন, তাই তারা এর মাধ্যমে জ্ঞান ও জ্ঞানের বিস্তার ঘটাচ্ছেন এবং দান-খয়রাতের প্রচার করছেন। অন্যদিকে কিছু মানুষের জন্য এই সোশ্যাল মিডিয়া একটি পাপ এবং বোঝা, কারণ তারা এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ জিনিসগুলি করছে যেগুলো চিরকাল থেকে যাবে।

 

তাই কিয়ামতের দিন তারা তাদের নিজেদের পাপের সাথে কোটি কোটি মানুষের গুনাহও তাদের আমলনামায় লিপিবদ্ধ পাবে! একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে একটি ভিডিও ক্লিপ লক্ষ লক্ষ ভিউ পায়৷ ধন্য সেই ব্যক্তি যে এটিকে ভাল কিজ ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করে এবং ধিক সেই ব্যক্তির জন্য যে এটি মন্দের জন্য ব্যবহার করে৷কখনো কখনো আপনি কোনো মজলিসে কোনো মুসলমানের গীবত করেন, আর সেই মজলিসে উপস্থিত কিছু লোক এই গীবত অন্য মজলিসে অনুলিপি করে, অথবা লোকেরা তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে, তাহলে তাদের সমস্ত গুনাহ আপনার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হয়ে যাবে। কখনও কখনও আপনি একজনকে খারাপ উপাধি দিয়ে ডাকেন, ফলে সেই উপাধিটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাকে অনুসরণ করতে থাকে, এভাবে আপনি নিজের জন্য অনেক গুনাহ করেন, যা আপনার খারাপ কাজের ফল!

 

আমাদের যুগে নেকীর একটি বড় দ্বার হল ওয়াকফের কাজে অংশগ্রহণ করা, যা অনেক এবং বিভিন্ন ধরণের, এর মধ্যে কিছু কুরআনের খেদমতের জন্য, কিছু দরিদ্র ও অভাবীদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য, কিছু কিছু কিছু মসজিদের জন্য ওয়াকফ, কিছু পানি সরবরাহ এবং কূপ খননের জন্য, আবার কিছু মসজিদ নির্মাণের জন্য, কিছু বিবাহের জন্য, কিছু এতিমদের সহায়তার জন্য, কিছু আল্লাহর দিকে আহ্বান ও ইলম প্রচারের জন্য। যদি একজন মুসলিম ব্যবস্থা করে এই ওয়াকফের কাজে অংশ নেওয়ার, এমনকি অল্প পরিমাণ অর্থ দিয়েও, তিনি অনেক নেকী অর্জন করবেন।

 

চাষীদের জন্য এটা সুসংবাদ যে যে বীজ বপন করে এবং যে চারা রোপণ করে সে এই উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন শস্য ও ফলগুলির জন্য সে সাওয়াব পায়, যা কল্যাণের স্থায়ী লক্ষণ ও ছাপ।

 

সুতরাং জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা উম্মু মা'বাদ এর বাগানে ঢুকলেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে উম্মু মা'বাদ! এ গাছ কে লাগিয়েছে? কোন মুসলিম ব্যক্তি না কোন কাফির? সে জানাল, মুসলিম। তিনি বললেন, কোন মুসলিম যদি কোন গাছ লাগায়, আর তা থেকে মানুষ কিংবা চতুষ্পদ জন্তু অথবা পাখী খেয়ে নেয়, তবে কিয়ামাতের দিন পর্যন্ত তা তার জন্যে সদাকাহ হিসেবে থাকবে। (মুসলিম)

 

ইমাম নাববী এই হাদিসটি এবং এই অর্থের অন্যান্য হাদিস বর্ণনা করে লিখেছেন: "এই হাদিসগুলো বীজ রোপণ ও বপনের ফজিলত প্রমাণ করে এবং এটা জানা যায় যে, যে ব্যক্তি এটি করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে সাওয়াব পেতে থাকবে যতক্ষণ গাছ থাকবে এবং তা থেকে ফল এবং শস্য ফলবে, কিয়ামত আসা পর্যন্ত এমনটা জারি থাকবে"।

 

প্রিয় আমার বন্ধুরা! সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন অনেক গ্রুপ রয়েছে যেগুলিতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং পরিচিতজনরা থাকেন। তবুও কিছু লোক একজন বেপর্দা মহিলার ভিডিও পোস্ট করতে সতর্ক নয়, যাকে দেখা সমস্ত আলেমগণের ঐক্যমতে হারাম। আর সবচেয়ে বড় ফিতনা হল অশ্লীল ভিডিও প্রচার করা। যারা এই ভিডিওগুলো দেখে এবং প্রচার করে তাদের কত বড় গুনাহ হবে! আমরা লাঞ্ছনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই! কোনো মুসলমানের এমন ভিডিও প্রতি নজর পড়ে গেলেও তা প্রচার করা তার জন্য জায়েজ নয়।

 

প্রিয় বন্ধুগণ! একজন মুসলমানের উচিত এমন একটি কাজ সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন হওয়া, যার গুনাহ অব্যাহত থাকে, এর পরিবর্তে তাকে এমন কাজের ব্যবস্থা করতে হবে, যার উপকারিতা তার মৃত্যুর পরেও অব্যাহত থাকবে, তার চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে এবং তার সাওয়াব পেতে থাকবে।

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানদার ব্যাক্তির মৃত্যুর পর তার যেসব কাজ ও তার যেসব পুণ্য তার সাথে যুক্ত হয় তা হলঃ যে জ্ঞান সে অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে এবং তার প্রচার করেছে, তার রেখে যাওয়া সৎকর্মপরায়ণ সন্তান, কুরআন যা সে ওয়ারিসী সূত্রে রেখে গেছে অথবা মাসজিদ যা সে নির্মাণ করিয়েছে অথবা পথিক-মূসা ফিরদের জন্য যে সরাইখানা নির্মাণ করেছে অথবা পানির নহর যা সে খনন করেছে অথবা তার জীবদ্দশায় ও সুস্থাবস্থায় তার মাল থেকে যে দান-খয়রাত করেছে তা তার মৃত্যুর পরও তার সাথে (তার আমলনামায়) যুক্ত হবে। (ইবনে মাজাহ, আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন)

 

এ হাদিস থেকে জানা যায়: মুমিনদের ওপর আল্লাহর কত অনুগ্রহ ও দয়া যে, কতিপয় আমলের সওয়াব তাদের মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত এসব আমলের প্রভাব থাকেঃ

﴿ إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ ﴾ [يس: 12].

 

অনুবাদঃ নিশ্চয় আমরা মৃতকে জীবিত করি এবং লিখে রাখি যা তারা আগে পাঠায় ও যা তারা পিছনে রেখে যায় । আর আমরা প্রত্যেক জিনিস স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি ।

 





حفظ بصيغة PDFنسخة ملائمة للطباعةأرسل إلى صديقتعليقات الزوارأضف تعليقكمتابعة التعليقات

شارك وانشر

مقالات ذات صلة

  • ونكتب ما قدموا وآثارهم (خطبة)
  • ونكتب ما قدموا وآثارهم (خطبة) (باللغة الأردية)
  • ونكتب ما قدموا وآثارهم (خطبة) - باللغة الإندونيسية

مختارات من الشبكة

  • تخطيط الحياة في ضوء قول الله (ونكتب ما قدموا وآثارهم)(محاضرة - موقع الشيخ د. خالد بن عبدالرحمن الشايع)
  • {ونكتب ما قدموا وآثارهم}(مقالة - آفاق الشريعة)
  • ذاك الذي يمشي على الرمل(مقالة - ثقافة ومعرفة)
  • الحديث الحادي عشر: الصدق سبب في نجاح الدنيا والآخرة(مقالة - آفاق الشريعة)
  • الحديث السادس عشر: تحريم سب الأموات(مقالة - آفاق الشريعة)
  • ماذا قدموا لخدمة الدين؟ وماذا قدمنا نحن؟ (خطبة)(مقالة - آفاق الشريعة)
  • النهي عن حصر كلام الله بما في كتبه أو ما تكلم به مع أنبيائه ورسله وأوليائه(مقالة - آفاق الشريعة)
  • سطور منسية.. من يكتب تاريخ الأسر وكيف يخلد؟ الوثائق العائلية: ذاكرة صامتة تنطق بالحقيقة(مقالة - موقع د. صغير بن محمد الصغير)
  • بعد ست سنوات من البناء.. افتتاح مسجد أوبليتشاني في توميسلافغراد(مقالة - المسلمون في العالم)
  • وفاة ملكة جمال الكون!(مقالة - آفاق الشريعة)

 



أضف تعليقك:
الاسم  
البريد الإلكتروني (لن يتم عرضه للزوار)
الدولة
عنوان التعليق
نص التعليق

رجاء، اكتب كلمة : تعليق في المربع التالي

مرحباً بالضيف
الألوكة تقترب منك أكثر!
سجل الآن في شبكة الألوكة للتمتع بخدمات مميزة.
*

*

نسيت كلمة المرور؟
 
تعرّف أكثر على مزايا العضوية وتذكر أن جميع خدماتنا المميزة مجانية! سجل الآن.
شارك معنا
في نشر مشاركتك
في نشر الألوكة
سجل بريدك
  • بنر
  • بنر
  • بنر
كُتَّاب الألوكة
  • إفطار رمضاني يعزز ارتباط الشباب بالمسجد في ألكازار دي سان خوان
  • مسلمون جدد يجتمعون في إفطار رمضاني جنوب سيدني
  • مسابقة رمضانية في يايسي لتعريف الطلاب بسيرة النبي محمد
  • سلسلة محاضرات رمضان "المعرفة - منفعة عامة" تواصل فعالياتها في تيشان
  • طلاب القرم يتعلمون قيم الرحمة عبر حملة خيرية تعليمية
  • تعرف على مسجد فخر المسلمين في شالي أكبر مسجد في أوروبا
  • مسلمو تايلر يفتحون أبواب مسجدهم لتعريف الناس بالإسلام في رمضان
  • مبادرة رمضانية لمسلمين تقدم علاجا وغذاء مجانيا في سان خوسيه

  • بنر
  • بنر
  • بنر
  • بنر
  • بنر

تابعونا على
 
حقوق النشر محفوظة © 1447هـ / 2026م لموقع الألوكة
آخر تحديث للشبكة بتاريخ : 27/9/1447هـ - الساعة: 23:38
أضف محرك بحث الألوكة إلى متصفح الويب